আমতলীর কুকুয়া খাল শুকিয়ে সেচ সংকট

দেশজুড়ে
আমতলীর কুকুয়া খাল শুকিয়ে সেচ সংকট

Oplus_16908288

৩ মার্চ ২০২৬

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া খাল-একসময় যার পানির ওপর নির্ভর করতেন হাজারো কৃষক-আজ পরিণত হয়েছে ধুলোময় প্রান্তরে। পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চাষি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সেচ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন, বাড়ছে হতাশা। কুকুয়া খালের বুকজুড়ে এখন শুধু হাহাকার।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গুলিশাখালী সীমান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত হয়ে পায়রা নদীতে গিয়ে মিশেছে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল, যা এক সময় ছিল প্রায় ২০০ মিটার প্রস্থের, এখন পানিশূন্যতায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। একসময় এই খালের পানিতেই সেচ হতো শত শত একর জমি। কৃষকের প্রাণ ছিল এই পানি, জেলেদের রুটি-রুজিরও বড় উৎস ছিল এটি।

কিন্তু বর্তমানে খালের অন্তত ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার এলাকায় নেই কোনো পানিপ্রবাহ। মহিষকাটা বাজার থেকে গগনখাঁ বাজার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অংশ শুকিয়ে কাদায় পরিণত হয়েছে। কোথাও জমেছে পলি, কোথাও জন্মেছে ঝোপঝাড়। খালের তলদেশে জমে থাকা বালু ও পলি পানিপ্রবাহকে কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেচ না পেয়ে চাষ কমাচ্ছেন কৃষক

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কৃষক আবদুল কাদের (৪৮) বলেন, আগে এই খালের পানিতে দুই মৌসুমে ধান আর সবজি চাষ করতাম। এখন সেচের জন্য স্যালো মেশিন ভাড়া করতে হয়। খরচ বেশি, লাভ কম। অনেক জমি ফেলে রাখতে হচ্ছে। আরেক কৃষক মো. সেলিম হাওলাদার বলেন, খালটা যদি খনন করা হতো, আমাদের এত কষ্ট হতো না। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, কিন্তু পানির অভাবে ফলন কম হয়েছে। ব্যাংকের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছি। স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগমের ভাষ্য, এই খালে একসময় নৌকা চলত, মাছ ধরা হতো। এখন বাচ্চারা হেঁটে পার হয়ে যায়। খালটা চোখের সামনে মরে যাচ্ছে।

উৎপাদন কমে বাড়ছে আর্থিক চাপ পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে আর্থিক চাপ। কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামেও প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খাল খননের উদ্যোগ না নেওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত খনন কার্যক্রম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে কুকুয়া খাল পুরোপুরি মৃতপ্রায় হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

প্রশাসনের আশ্বাস এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। জনগণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নদী বাঁচলে কৃষক বাঁচবে-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। এখন দেখার বিষয়, কবে নাগাদ কার্যকর উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।