ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেশজুড়ে
ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনতাই, বিএনপির ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিউজ ডেস্ক
১৪ মার্চ ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে হরিপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাকিম আজাদ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—হরিপুর উপজেলার বশলগাঁও এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মোকলেসুর রহমান, তোররা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে বিএনপি নেতা এরফান আলী, ভবান্দপুর এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা মো. ফারুক, ভটা মোহাম্মদের ছেলে মাসুদ রানা এবং মশানগাঁও এলাকার কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনওর কক্ষে ঢুকে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে পরীক্ষার খাতা নিয়ে যান।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলছিল। এ সময় কয়েকজন এসে তার কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং নিরীক্ষকদের কাছ থেকে পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ জানাতে তারা ইউএনওর সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তবে ইউএনও বিষয়টি আমলে না নেওয়ায় তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন পরীক্ষার কাগজপত্র নিয়ে যায়। পরে সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে আটজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শেষে ইউএনওর কক্ষে বসে উত্তরপত্র যাচাইয়ের সময় সেখান থেকে কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

হরিপুর থানার ওসি মো. আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।