জ্বালানি সংকটে আমতলীর হাটবাজারে অস্থিরতা
জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার গ্রামীণ হাটবাজারে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাছ, মুরগি ও সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে চালসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলক কম থাকায় আংশিক স্বস্তি রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। এদিকে চালের বাজারে দেখা দিয়েছে ক্রেতা সংকট, যা স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করেছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দিনে মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
হাঁস-মুরগির বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। খামারিরা জানান, খাবার ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশি মুরগি ও হাঁস আগের তুলনায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন।
সবজির বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সবজির দাম বেড়েছে পরিবহন সংকটের কারণে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্য আনা-নেওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা সরাসরি দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তবে বাজারে কিছুটা স্বস্তির দিকও রয়েছে। চাল, ডাল, আলু ও পেঁয়াজসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে দৈনন্দিন খাদ্য ব্যয় কিছুটা সামলে নিতে পারছেন ক্রেতারা।
অন্যদিকে চালের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দাম কম থাকলেও ক্রেতা কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, আর্থিক চাপে অনেকেই আগের মতো বেশি পরিমাণে চাল কিনতে পারছেন না। ফলে বিক্রি কমে গেছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে আমতলীর গ্রামীণ হাটবাজারে এখন মিশ্র চিত্র বিরাজ করছে। একদিকে কিছু পণ্যে স্বস্তি থাকলেও অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যে বাড়তি চাপ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সামনের দিনে বাজার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


