এক সপ্তাহ পর পর্যটকদের জন্য খুলছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিতে ডুবে যাওয়ায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার বিকাল থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট বিকাল থেকে ঝুলন্ত সেতুর ওপর দিয়ে দর্শনার্থীদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। সেতুটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
টানা সাত দিন বন্ধ থাকার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে আজ ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল থেকে ঝুলন্ত সেতুটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাঙামাটির পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের অন্যতম আকর্ষণ এই ঝুলন্ত সেতু। সেতুটি দেখতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক রাঙামাটিতে ছুটে আসেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সেতুটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল।
এতে দূর-দূরান্ত থেকে রাঙামাটিতে আসা অনেক পর্যটক হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। ঝুলন্ত সেতু দেখার আগ্রহ নিয়ে এসে সেটি পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় দেখে অনেকেই মন খারাপ করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, ঝুলন্ত সেতু বন্ধ থাকায় পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সেও এর প্রভাব পড়েছে। পর্যটকদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির আয়েও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, টানা এক সপ্তাহ ঝুলন্ত সেতু পানিতে নিমজ্জিত থাকায় দর্শনার্থীদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর আজ শনিবার শনিবার বিকাল থেকে সেতুটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঝুলন্ত সেতু খুলে দেওয়ার খবরে রাঙামাটির পর্যটন খাতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেতু ও পর্যটন এলাকার সার্বিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
উল্লেখ্য, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সাময়িকভাবে যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল, ঝুলন্ত সেতু খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

