কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান, চট্টগ্রাম-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুরে আটক শত শত

দেশজুড়ে
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান, চট্টগ্রাম-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুরে আটক শত শত
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ ও উঠতি বয়সীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরে কয়েক শ কিশোরকে আটক করা হয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৪৪৫, লক্ষ্মীপুরে ২৪৪ এবং চাঁদপুরে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অনেককে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ কিশোরকে শনাক্ত করা হলেও ৩৫৪ জনকে থানায় নেওয়া হয়। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থান এবং কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য জায়গায় অভিযান চালানো হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সোমবার সকালে জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে কিশোরদের শনাক্ত করা হয়।

পরে যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ১৫২ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

লক্ষ্মীপুরে জেলা পুলিশের প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক সবার বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলার সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৪২, চন্দ্রগঞ্জে ২১, রায়পুরে ৪৪, রামগঞ্জে ৩৭, রামগতিতে ৪৪ এবং কমলনগরে ৫৬ জন রয়েছে।

আটক কিশোরদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন মাহমুদ ও শিক্ষক শামছুদ্দিন বাবুল বলেন, শুধু শহর এলাকায় অভিযান চালালে হবে না; গ্রামাঞ্চলেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। আটক কিশোরদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাঁদপুরের আট উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ৩৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জেলার আট থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাদিরা নুর রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশে এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আট থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানে চাঁদপুর সদরে ৩৫, হাইমচরে ৪৮, ফরিদগঞ্জে ৪১, হাজীগঞ্জে ৩৭, কচুয়ায় ৬২, শাহরাস্তিতে ৪৫, মতলব উত্তরে ৫২ এবং মতলব দক্ষিণে ৩৬ জনকে আটক করা হয়। পাশাপাশি ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১৪ জনকে আটক করে।

পরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫৫ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।