স্বাস্থ্য খাতে ৪০ শতাংশ পদ শূন্য, নিয়োগ হচ্ছে ৫ হাজার চিকিৎসক: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশজুড়ে
স্বাস্থ্য খাতে ৪০ শতাংশ পদ শূন্য, নিয়োগ হচ্ছে ৫ হাজার চিকিৎসক: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
১১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট নিরসনে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়াতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। জনবলের ঘাটতির কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন বলে দাবি করেন ড. এম এ মুহিত।

উপজেলা পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিদ্যমান যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয় আরও সহজ হবে। এতে রোগীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

দুই কোটির বেশি শিশুকে হাম প্রতিরোধের টিকা

হাম প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলমান টিকাদান কর্মসূচি এবং টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের আওতায় আনতে বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা ও লার্ভা নিধন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে দুই হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। এ কারণে টিকাদান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।