গরুর মাংসে আগুন, স্বস্তি মিলছে মুরগি-মাছে!

গরুর মাংসে আগুন, স্বস্তি মিলছে মুরগি-মাছে!
নিউজ ডেস্ক
২০ জুন ২০২৫

বাজারে গরুর মাংসের মূল্য এখন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া মুরগি ও মাছই হয়ে উঠেছে ক্রেতাদের প্রধান ভরসা।

শুক্রবার সকালে বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রীসহ ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৬০-১৭০ টাকার মধ্যে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৪০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০-৫৫০ টাকা।
তবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ব্রয়লারেই। বিক্রেতারা বলছেন, দাম কিছুটা কম হওয়ায় মুরগির বিক্রিও বেড়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

রাসেল মিয়া, রামপুরা বাজারের এক বিক্রেতা বলেন,

“মুরগির দাম অনেকদিন ধরেই কম। কেউ ধরে রাখতে চায় না, কারণ দ্রুত মরে যায়। তাই ১৬০-১৭০ টাকায় ছেড়ে দিচ্ছি। লাভ কম হলেও বিক্রি ঠিকই হচ্ছে।”

আরেক বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম জানান,

“খরচ উঠে গেলেই হয়, লাভের কথা এখন আর ভাবি না। লোকজন বেশি করে কিনছে, ফ্রিজে রেখে দিচ্ছে।”

রুই-কাতলা থেকে শুরু করে তেলাপিয়া, পাঙাশ — সব মাছই মিলছে মোটামুটি সহনীয় দামে।
বাজারে রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকায়, কাতলা ৩৪০-৪০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০-৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-২২০ টাকা।

জসিম উদ্দিন, বনশ্রীর এক মাছ বিক্রেতা বলেন,

“সবমিলিয়ে মাছের দাম সহনীয়। বিক্রিও ভালো হচ্ছে। দেশি মাছের দাম কিছুটা বেশি, কিন্তু ক্রেতা আছে।”

শফিকুল ইসলাম, এক স্কুল শিক্ষক বলেন,

“৮০০ টাকায় গরুর মাংস এখন একপ্রকার বিলাস। তার চেয়ে বরং মুরগিই ভালো। বাচ্চারাও খুশি, পকেটও কিছুটা স্বস্তিতে থাকে।”

সেলিনা হোসেন, একজন গৃহিণী বলেন,

“মাংস কিনেছি, কিন্তু মন ভরেনি। দাম এমন যে, বিক্রেতারা যেন আমাদের করুণার পাত্র বানিয়ে রাখে। দরদাম করার উপায়ও নেই।”

গরুর মাংসের মতোই চড়া খাসি ও ছাগলের মাংসের দামও।
প্রতি কেজি খাসি ১,২৫০ টাকা, ছাগল ১,১০০ টাকা — যা অধিকাংশ পরিবারের জন্য ‘ঐচ্ছিক’ আইটেমে পরিণত হয়েছে।

গরুর মাংসের চড়া দাম বাজারে এক নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে সস্তা ও সহজলভ্য উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাছ ও মুরগিই হতে পারে স্বস্তির সঙ্গী।