জুনে পোশাক রপ্তানি বাড়লেও বছর শেষে আয়ে ধাক্কা
সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। এই বড় প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিদায়ী অর্থবছরে (জুলাই ২০২৫-জুন ২০২৬) আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে দেশে সব পণ্যের বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন (৪২০ কোটি) মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই মাসে এই রপ্তানি আয় হয়েছিলো ৩ দশমিক ৩৪ (৩৩৪ কোটি) বিলিয়ন ডলার। এই হিসেবে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
মূলত তৈরি পোশাক (আরএমজি) থেকে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাড়ায় গত জুন মাসের আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সার্বিক রপ্তানিতে এই বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। সদ্য বিদায়ী জুন মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন (৩৩৯ কোটি) ডলার। আগের বছরের একই মাসে যা হয়েছিল ২ দশমিক ৭৯ (২৭৯ কোটি) ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে গত জুন মাসে পোশাক থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব পণ্যের বিপরীতে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন হলেও পুরো অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি আয় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮০০ কোটি) ডলার। আগের অর্থবছরে যা হয়েছিল ৪৮ দশমিক ২৮ বিলিয়ন (৪ হাজার ৮২৮ কোটি) ডলার।
সার্বিকভাবে বিদায়ী অর্থবছরে মোট রপ্তানি আয় কমার ক্ষেত্রেও তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ভূমিকা ছিল। আলোচিত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ (৩ হাজার ৮৭০ কোটি) ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৯৩৫ কোটি) ডলার।
তবে বিদায়ী অর্থবছরে পোশাক ছাড়াও অনেকগুলো খাতে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এরমধ্যে তামাকজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় কমেছে ২১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, চা থেকে কমেছে ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, সিরামিক থেকে কমেছে ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, হস্তশিল্প বা কারুশিল্প থেকে কমেছে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং পাট রপ্তানি থেকে ১১ দশমিক ৬৪ শতাংশ রপ্তানি আয় কমেছে।

