জুলাই মাসে ২.৮৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আয়
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২৮৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে জুলাইয়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। মাসের প্রথম পাঁচ দিনে দেশে আসে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রথম ২১ দিনে এ পরিমাণ দাঁড়ায় ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে।
মাসের ২৭ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৫২ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। শেষ পর্যন্ত ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় প্রায় ২৮৬ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
জুলাই মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি—২০৮ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলার।
তবে জুলাইয়ে আটটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল), বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও পদ্মা ব্যাংক পিএলসি।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে জুলাইয়ে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং প্রণোদনার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে।
এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী থাকতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


