বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশের ৩ প্রস্তাব

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশের ৩ প্রস্তাব
১০ আগস্ট ২০২৬

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পণ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি তাৎক্ষণিক প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। এনজেডটিইর মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাড়ছে বাণিজ্য, পোশাকনির্ভর রপ্তানি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বর্তমানে বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বাণিজ্য হয়। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আমদানির ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্যের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাকনির্ভর।

বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে পোশাকের বাইরে বাংলাদেশের অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে এনজেডটিইর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ওষুধ ও আইটি খাতে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ

বৈঠকে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, টেকসই বস্ত্র এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে নিউজিল্যান্ডের বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়।

এ ছাড়া দেশের ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান

নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বিশেষ করে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, আধুনিক উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে।

তিনটি প্রস্তাব বাংলাদেশের

দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতাকে দ্রুত এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ তিনটি তাৎক্ষণিক প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলো হলো—

  • এনজেডটিইর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বিডার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন;
  • বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন;
  • নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক পরিষদ গঠন এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে একমত পোষণ করা হয়।

বৈঠকে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের বড় বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির সক্ষমতার সমন্বয় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে পারে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা ছিলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।