গরমে শরীর ঠান্ডা রাখবে যেসব খাবার
তীব্র গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। এতে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়।
এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে পানিসমৃদ্ধ ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া জরুরি। এসব খাবার শরীরে পানির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি হজমশক্তি ঠিক রাখতেও সহায়তা করতে পারে।
এ বিষয়ে এমএইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের পুষ্টিবিদ আঞ্জুম আরা শিমুল বলেন, তীব্র গরমে শরীরকে সুস্থ, সতেজ ও ঠান্ডা রাখতে খাবার নির্বাচনে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা উচিত।
তরমুজ
গরমের অন্যতম জনপ্রিয় ফল তরমুজে প্রচুর পানি থাকে। এতে থাকা পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি তরমুজে ভিটামিন সি ও লাইকোপেনের মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
শসা
শসায় পানির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় গরমে এটি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি ভালো রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
ডাবের পানি
গরমে ডাবের পানি বেশ উপকারী পানীয়। এতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো ইলেকট্রোলাইট রয়েছে, যা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া কিছু খনিজ পূরণে সহায়তা করতে পারে।
আম ও টকজাতীয় ফল
কাঁচা আম দিয়ে তৈরি আমপোড়া শরবত গরমে স্বস্তি দিতে পারে। কমলা, জাম্বুরার মতো টকজাতীয় ফলে ভিটামিন সি থাকে এবং এসব ফল শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক।
টক দই ও বাটারমিল্ক
প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ টক দই হজমশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে। দইয়ের তৈরি লাচ্ছিও গরমে উপকারী হতে পারে। বাটারমিল্কও পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে।
পুদিনা পাতা
পুদিনায় থাকা মেন্থলের কারণে মুখ ও শরীরে শীতল অনুভূতি তৈরি হতে পারে। গরমের সময়ে পুদিনা দিয়ে শরবত বা অন্যান্য পানীয় তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে।
পানিসমৃদ্ধ সবজি
লাউ, ঝিঙে, পটল, চিচিঙ্গা, করলা, পালংশাক ও পুঁইশাকের মতো সবজিতে পানি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। গরমে এসব সবজি খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।
আরও যেসব খাবার খেতে পারেন
তোকমাদানা পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া, লেবুর শরবত এবং ছাতুর শরবত গরমে শরীর সতেজ রাখতে সহায়ক হতে পারে। পান্তাভাতও অনেকের খাদ্যতালিকায় থাকে এবং এতে থাকা পানি ও খনিজ উপাদান শরীরের পানিশূন্যতা মোকাবিলায় কিছুটা সহায়তা করতে পারে।
যেসব খাবার কম খাবেন
গরমের সময়ে অতিরিক্ত লাল মাংস ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। একইভাবে ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত ও বেশি তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চা-কফির মতো ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয় অতিরিক্ত পান না করে পর্যাপ্ত সাধারণ পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে বাইরে কাজ করলে বা অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত তরল গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


