মাইক্রোসফট ও মায়ো ক্লিনিকের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবার নতুন এআই মডেল

স্বাস্থ্য
মাইক্রোসফট ও মায়ো ক্লিনিকের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবার নতুন এআই মডেল
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রোগী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরির ঘোষণা দিয়েছে মাইক্রোসফট ও অলাভজনক মার্কিন চিকিৎসাকেন্দ্র মায়ো ক্লিনিক।

প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, নতুন মডেলে মায়ো ক্লিনিকের চিকিৎসা জ্ঞান, পরিচয় গোপন রাখা স্বাস্থ্যতথ্য ও রোগী পরিচর্যার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মাইক্রোসফটের এআই, ক্লাউড এবং প্রকৌশল সক্ষমতা একীভূত করা হবে।

মডেলটি বিভিন্ন ধরনের ক্লিনিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং রোগীর জন্য আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে। প্রাথমিকভাবে মায়ো ক্লিনিকের চিকিৎসা পরিবেশেই মডেলটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাস্তব ব্যবহারের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন করা হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মায়ো ক্লিনিকের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জিয়ানরিকো ফারুগিয়া বলেন, এআই স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করেন। উদ্ভাবন, চিকিৎসাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং রোগ নিরাময়ের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন মডেলটি তৈরি করা হচ্ছে।

মডেলটি মায়ো ক্লিনিক ও মাইক্রোসফট অ্যাজুর ফাউন্ড্রি এপিআইয়ের মাধ্যমে সহজলভ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। অ্যাজুর ফাউন্ড্রি এপিআইয়ের সাহায্যে ডেভেলপার ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন ও সেবায় এআই মডেল যুক্ত করতে পারে।

মাইক্রোসফট এআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুস্তফা সুলেমান বলেন, মায়ো ক্লিনিকের ক্লিনিক্যাল দক্ষতা, পরিচয় গোপন রাখা স্বাস্থ্যতথ্য এবং দীর্ঘদিনের চিকিৎসা অভিজ্ঞতা স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি অত্যাধুনিক ভিত্তি মডেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে চিকিৎসা খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ। রোগীর স্বাস্থ্য ইতিহাসসহ সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের কারণে এ ধরনের প্রযুক্তিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক তদারকি প্রয়োজন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইন অনুযায়ী, চিকিৎসাসংক্রান্ত এআই সফটওয়্যারকে উচ্চঝুঁকির প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এসব ব্যবস্থায় ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা, মানসম্মত তথ্য এবং যথাযথ মানবিক তদারকির মতো কঠোর শর্ত প্রযোজ্য।

স্বাস্থ্যসেবাকে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হলেও প্রযুক্তিটির নির্ভুলতা, পক্ষপাত, তথ্যের গোপনীয়তা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালে দুই হাজার রোগীর ওপর সেম্বল পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, প্রতি চারজনের একজন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শের জন্য এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভর করছেন।