হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু

স্বাস্থ্য
হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু
৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হামের টিকা সরবরাহের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ‘মুক্ত দরপত্র’ চালুর সিদ্ধান্তই দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, ইউনিসেফের একাধিক সতর্কতা ও চিঠি উপেক্ষা করে নেওয়া ওই সিদ্ধান্তের কারণে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং এর খেসারত দিতে হয়েছে শিশুদের।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্যখাতের কার্যকারিতা ও পরিচালনা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যা বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৯ মাসের শাসনামলে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিপুল বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তহীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে হামের টিকার সংকট তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে দেশের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি জানান, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি)-এর সহায়তায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত হামের টিকা সংগ্রহ করে আসছিল। এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছিল।

তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওই সরবরাহ পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হামের টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান মন্ত্রী।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই নীতি পরিবর্তনের পর টিকা সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয় এবং দেশে হামের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার তথ্য ও পর্যালোচনায় সংকটের পেছনে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী ভুলের বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও সংসদকে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হলেও তা যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে টিকার ঘাটতির প্রভাব পড়ে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে।