ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে উত্তেজনা চরমে, ‘কঠিন সময় পার করছি’— ইরানের প্রেসিডেন্ট
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যেখানে তিনি বলেছেন, ‘কঠিন সময় আমরা কাটিয়ে উঠব’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন,
“সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাকে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও সম্পদ দিয়ে ইরানের জন্য কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সংকটময় সময়ে দেশের জনগণের ধৈর্য ও সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈশ্বরের কৃপায় আমরা একসঙ্গে এই দিনগুলো অতিক্রম করব।”
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের নাতাঞ্জে (আহমেদাবাদের কাছে অবস্থিত শহীদ আহমাদি রোশন পারমাণবিক স্থাপনা) হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)।
ইসরায়েলের দাবি, এটি এমন একটি স্থাপনা যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত উপকরণ ও যন্ত্রাংশ রয়েছে।
নাতাঞ্জ ইরানের মূল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র, যেখানে ৭০টিরও বেশি সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে। এর আগেও সেখানে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, সর্বশেষ ১৪ জুনের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল নিহত হন।
ইসরায়েলের কয়েকটি শহরে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ৬৫ জন, যার মধ্যে হোলোন শহরে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রামাতগন ও তেল আবিবেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়,
“এটি ছিল ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ১৪তম শক্তিশালী সমন্বিত হামলা।”
তবে তারা হামলার বিস্তারিত স্থান বা কৌশল নিয়ে কিছু প্রকাশ করেনি।
ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার এই নতুন মাত্রা বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে এটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে।


