ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিলেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের এক সদস্য। রিপাবলিকান দলের জর্জিয়ার কংগ্রেসম্যান আর্ল ‘বাডি’ কার্টার এই মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি।
নরওয়ের নোবেল কমিটিতে পাঠানো মনোনয়নপত্রে কার্টার উল্লেখ করেন, “পশ্চিম জেরুজালেম ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকা ছিল অসাধারণ ও ঐতিহাসিক। তার কূটনৈতিক উদ্যোগ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।”
তবে ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েকদিন আগেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন বিমান হামলা চালায়। ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এসব স্থাপনা “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” করা হয়েছে। যদিও ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, স্থাপনাগুলোর মূল কাঠামো অক্ষত রয়েছে এবং তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে সিএনএনের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছুটা ক্ষতি হলেও মূল কাঠামো ধ্বংস হয়নি। বরং কর্মসূচিটি কয়েক মাসের জন্য বিলম্বিত হয়েছে মাত্র।
ট্রাম্প যখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, তার কিছুক্ষণ পরই ইসরায়েল ও ইরান পুনরায় একে অপরের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপর ট্রাম্প কড়া ভাষায় উভয় পক্ষকে সতর্ক করেন। যদিও ইসরায়েল এরপর আর কোনো নতুন হামলায় যায়নি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি উদ্যোগ স্বাগতযোগ্য হলেও, এটিকে টেকসই করতে হলে শুধু সামরিক মধ্যস্থতা নয়, কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতাও জরুরি। অন্যদিকে ট্রাম্পের নোবেল মনোনয়নকে কেউ কেউ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, সমর্থকরা একে “আন্তর্জাতিক শান্তির পক্ষে বড় অবদান” হিসেবে দেখছেন।


