মধ্যপ্রাচ্যে শেষ হওয়া সংঘাত: কে জিতল, কে হারল?

মধ্যপ্রাচ্যে শেষ হওয়া সংঘাত: কে জিতল, কে হারল?
নিউজ ডেস্ক
২৫ জুন ২০২৫

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে শেষ হওয়া সামরিক সংঘাত এখন একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—কে আসলে জয়ী, আর কে পরাজিত? যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, উত্তেজনা থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস, যেখানে বলা হয়েছে—প্রতিটি পক্ষই তাদের “বিজয়ের কাহিনি” তুলে ধরছে, কিন্তু বাস্তব চিত্রটা অনেক বেশি জটিল।

যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানের মাধ্যমে হামলা চালায়। পরে ইসরায়েল একের পর এক ইরানি সামরিক নেতা ও পারমাণুবিজ্ঞানীকে নিশানা করে। এসব হামলায় ইরানের সামরিক ও পরমাণু সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।

ইরানও চুপ থাকেনি। বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) যুক্তরাষ্ট্রের কাতার ঘাঁটি আল-উদেইদকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। তবে হামলার আগেই কাতারকে সতর্ক করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইরানের প্রতিক্রিয়া ছিল নিয়ন্ত্রিত—তারা সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চেয়েছে ‘প্রতিশোধ’ হলেও তা এমনভাবে হোক যাতে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি যুদ্ধে না জড়ায়। অন্যদিকে ট্রাম্প হামলার প্রতিক্রিয়ায় ধন্যবাদ জানান ইরানকে—আগাম সতর্কতা দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, “এটা ভালো দিক যে ইরানের মনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আর কোনো ঘৃণা নেই।”

এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তবে যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যা শান্তি-প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জয়ের দাবির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাস্তবতা?

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভায়েজ বলেন, “তিন পক্ষই নিজেকে জয়ী হিসেবে উপস্থাপন করছে।”

  1. যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে।

  2. ইসরায়েল দাবি করছে, তারা ইরানকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করেছে।

  3. আর ইরান বলছে, তারা “সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে” সরাসরি প্রতিরোধ করেছে এবং পালটা জবাব দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি মানেই শান্তি নয়। ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের সঠিক পরিমাণ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের জানা নেই। ইরান এই কর্মসূচি পুনরায় চালু করতে কতটা সময় নেবে তাও অনিশ্চিত। ট্রাম্প প্রশাসন আরও নিষেধাজ্ঞা দেবে কিনা—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এখন সময় সংযম ও কূটনৈতিক সংলাপের। অন্যথায় মধ্যপ্রাচ্য আরও গভীর সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।