ইসরায়েলের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত স্পেনের

ইসরায়েলের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত স্পেনের
নিউজ ডেস্ক
২ জুলাই ২০২৫

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্ষোভ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে স্পেনের বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘সিডেনর’ জানাল—তারা আর ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য করবে না।

স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় বাস্ক অঞ্চলে অবস্থিত সিডেনর নামের স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি মঙ্গলবার এক ঘোষণায় জানায়, ইসরায়েলে পণ্য রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করে জানায়, সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলবে না, কারণ ইসরায়েল তাদের বার্ষিক রপ্তানির মাত্র ০.৫ শতাংশেরও কম।

এই সিদ্ধান্ত আসে এক বিস্ফোরক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরপরই। আয়ারল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিচ’ জানায়, সিডেনর গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইএমআই সিস্টেমস-এর কাছে প্রায় ১,২০৭ টন ইস্পাত রপ্তানি করেছে। এই তথ্য প্রকাশের পর স্পেনে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

স্পেনের ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রী পাবলো বুস্তিন্দুই ‘ব্লুস্কাই’-তে এক প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, “সিডেনর জনচাপের কাছে মাথা নত করেছে।” একই সঙ্গে তিনি স্পেনের ব্যবসায়ী সংগঠন সিইওই-এর আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানতে চেয়েছেন।

ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে স্পেন সরকার ইতিমধ্যেই সব কোম্পানিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য ‘স্থগিত’ রেখেছে। যদিও কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এখনও নির্দিষ্ট চুক্তিগুলো বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

ইউরোপের মধ্যে স্পেনই এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠ দেশ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করে বলেন, “ইইউ মানবাধিকারের প্রশ্নে দ্বৈতনীতি অনুসরণ করছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।”

গত বছর স্পেন সরকার ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এটি ছিল ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় একটি অগ্রণী সিদ্ধান্ত। গাজায় ইসরায়েলি অভিযান এখন পর্যন্ত ৫৬,০০০-এর বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং লাখো মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে।

সিডেনরের সিদ্ধান্তকে অনেকে দেখছেন একটি বাণিজ্যিক কৌশল হিসেবে, তবে অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে এটি জনমত এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। পশ্চিমা বিশ্বে বড় কর্পোরেশনগুলো এখন ক্রমেই মানবাধিকার বিষয়ক চাপের মুখে নৈতিক অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন—স্পেনের অন্যান্য কোম্পানি কি এই পথ অনুসরণ করবে?