কী আলোচনা হলো সৌদি-ইরান বৈঠকে?

কী আলোচনা হলো সৌদি-ইরান বৈঠকে?
নিউজ ডেস্ক
৯ জুলাই ২০২৫

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেও শান্তির সম্ভাবনা খুঁজছে ইরান ও সৌদি আরব। যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সফর করলেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সফরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বৈঠকটিকে “গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, যুবরাজ কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং চলমান যুদ্ধবিরতিকে স্থিতিশীলতার পথ হিসেবে দেখছেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

আরাগচি সৌদি আরবকে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে বহু সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যার জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের কাতার ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

এই সংকটের মধ্যেও তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। যদিও ২০১৬ সালে সৌদি-ইরান সম্পর্ক ছিন্ন হয়, ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয় এবং তারপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে।

ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও আস্থা পুনর্গঠন একটি জটিল প্রক্রিয়া।’ একইসঙ্গে আরাগচিও ফিনান্সিয়াল টাইমসে লিখেছেন, ‘শান্তির পথে অগ্রসর হতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ও ন্যায্য আলোচনায় আসতে হবে।’