পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টি: ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জনের মৃত্যু
পাকিস্তানে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জুনের শেষ থেকে বর্ষা মৌসুম শুরুর পর এই ভয়াবহ বন্যায় মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৮০ ছাড়িয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রতি বছরই বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনায় পাকিস্তানি সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কোথায় কি ঘাটতি রয়েছে?
পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডি ও আশেপাশের এলাকা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। নদীর পানি বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার পরেও হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে কার্যকর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলেই ক্ষোভ ছড়াচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
“প্রতিবছরই এই বর্ষা মৌসুমে একই ছবি। কয়েকদিন আগে সরকার বার্তা দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ খুব কমই,” জানান এক স্থানীয় বাসিন্দা।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র অবশ্য মৃত ও আহতের সংখ্যার খবর নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ব্যাপারে সুশাসন ও পরিকল্পনার অভাব মর্মান্তিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
“২০২২ সালের বন্যার মতো এবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আড়ালে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে,” মন্তব্য করেন সাদিয়া রহমান, একটি মানবাধিকার সংগঠনের নির্বাহী।
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ শুক্রবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি ছুটি ঘোষণা করলেও, ব্যাপক জনসংখ্যার নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের জন্য কতটা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষার তীব্রতা ও পরিমাণ বাড়ছে—এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা জরুরি। সেখানেই সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শুধুমাত্র প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব নিয়ে কথা নয়, সরকারের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।


