ছয় দিনেও উদ্ধার হয়নি পশ্চিমবঙ্গে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশি কার্গো
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যাওয়া বাংলাদেশি কার্গো জাহাজ ‘এমভি সোহান মালতি’ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন নদীপাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, বজবজ পাওয়ার প্লান্ট থেকে ফ্লাই অ্যাশ (শিল্পবর্জ্য ছাই) নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে কার্গোটি নদীর মাঝপথে তলদেশে ফাটল ধরে ডুবে যায়। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সময় এর ভেতরে আটজন নাবিক ছিলেন। স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনীর সহযোগিতায় তাদের সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, পরে উদ্ধার কার্যক্রম থেমে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জাহাজটিতে বহন করা ফ্লাই অ্যাশ ও জ্বালানি তেল ধীরে ধীরে নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে জলজপ্রাণী ও পরিবেশে মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নদীসংলগ্ন অঞ্চলের মানুষ ও মৎস্যজীবীরা বলছেন, ছাইয়ের প্রভাবে মাছ মারা যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই বিকল্প পেশার কথা ভাবছে।
একজন স্থানীয় মৎস্যজীবী বলেন, “এই নদীই আমাদের একমাত্র জীবিকা। ছয় দিন ধরে জাহাজটা পড়ে আছে। পানি আর ছাই একসঙ্গে মিশে আমাদের সর্বনাশ করছে।”
নদীর মাঝে ডুবে থাকা জাহাজটিতে কোনো সিগন্যাল লাইট বা সতর্কতা চিহ্ন না থাকায় নতুন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তারা অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট পোর্ট ট্রাস্ট বা কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।
সোমবার দেখা গেছে, জাহাজটি থেকে বস্তাবন্দি ছাই বের করে তোলা হচ্ছে। তবে পুরো জাহাজ উদ্ধারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জাহাজটির এক কর্মী হোসেন খাঁ জানান, “ছাই না সরালে জাহাজ তোলা সম্ভব নয়। তবে কবে উদ্ধার হবে, তা আমরা নিজেরাও জানি না।”
উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি নাবিকদের দেশে ফেরত পাঠানো নিয়েও কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতের স্থানীয় প্রশাসন ও উপকূল রক্ষীরা উদ্ধারকাজে অংশ নিলেও, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই নদী ও আশপাশের বাস্তুতন্ত্র চরম হুমকিতে পড়বে। ফ্লাই অ্যাশে থাকা ভারী ধাতু ও রাসায়নিক পদার্থ পানির সঙ্গে মিশে বড় ধরনের জলজ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।


