ট্রাম্পের প্রশংসার পর মিয়ানমারের সামরিক মিত্রদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
মিয়ানমারের সেনাশাসকদের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন সহযোগী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে হোয়াইট হাউস বা ট্রেজারি বিভাগ থেকে এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়, যখন মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠিতে প্রশংসা ও অনুরোধ জানিয়ে লিখেছিলেন— নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ শুল্ক পুনর্বিবেচনা করা হোক।
নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেলেন যারা:
-
কেটি সার্ভিসেস অ্যান্ড লজিস্টিকস ও এর প্রতিষ্ঠাতা জনাথন মিও কিয়াও থাং
-
এমসিএম গ্রুপ ও মালিক আউং হ্লাইং
-
সানটেক টেকনোলজিস ও মালিক সিত তাইং আউং
-
সামরিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টিন লাত মিন
তাদের অনেককে ২০২২ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছিল।
গত ১১ জুলাই মিন অং হ্লাইং এক চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের “দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব” ও “জাতীয় উন্নয়নে অবদানের” প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দুই দেশের মধ্যে শুল্ক হার কমানোর প্রস্তাব দেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “নিষেধাজ্ঞাগুলো দুই দেশের জনগণের মধ্যে সমঝোতা ও উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে”।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এই পদক্ষেপকে “নীতিহীন ও বিপজ্জনক” বলে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির এশিয়া বিষয়ক পরিচালক জন সিফটন বলেন,
“এই সিদ্ধান্ত আশ্চর্যজনক। এটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতি তার আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাত্র চার বছর আগে একটি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য বড় ধাক্কা।”


