খরার কবলে ইরান: তেহরানে পানির টানাপোড়েনে শঙ্কিত সরকার

খরার কবলে ইরান: তেহরানে পানির টানাপোড়েনে শঙ্কিত সরকার
নিউজ ডেস্ক
৩১ জুলাই ২০২৫

ইরান ভয়াবহ খরার মুখে পড়েছে এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে রাজধানী তেহরানে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইসহাক পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে সেপ্টেম্বর কিংবা অক্টোবর নাগাদ তেহরানের বাঁধগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে পারে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ‘ডিপার্টমেন্ট ফর এনভায়রনমেন্ট’-এর প্রধান শিনা আনসারি জানান, ইরানে বিগত পাঁচ বছর ধরেই তীব্র খরার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই বছর ভারী বৃষ্টিপাত ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যার প্রভাব পড়ছে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি আরও বলেন, ‘‘টেকসই উন্নয়নের অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণেই আজ ইরান এমন সংকটে পড়েছে।’’ তার মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন পানির অপচয়।

তেহরান প্রদেশের পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান মোহসেন আরদাকানি জানান, রাজধানীর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৩০ লিটারেরও বেশি পানি ব্যবহার করছেন, যা অত্যধিক।

সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে এক পর্যায়ে প্রস্তাব দিয়েছিল সপ্তাহে একদিন অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করার, যাতে গ্রীষ্মে পানির চাহিদা কিছুটা কমানো যায়। তবে প্রেসিডেন্ট সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তার ভাষায়, “ছুটি ঘোষণা করা সমস্যার সমাধান নয়, বরং সেটি লুকানোর চেষ্টা।”

ইরানে পানির বড় অংশ ব্যবহৃত হয় কৃষি খাতে—প্রায় ৮০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিক্ষেত্রে পানি ব্যবহারে আধুনিক প্রযুক্তি এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন না ঘটালে এ সংকট কাটানো কঠিন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের গ্রীষ্মে খুজেস্তানসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির তীব্র সংকটে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না সরকার।