কুয়েতে পানির ট্যাংক বিস্ফোরণে তিন প্রবাসীর মৃত্যু

কুয়েতে পানির ট্যাংক বিস্ফোরণে তিন প্রবাসীর মৃত্যু
নিউজ ডেস্ক
৬ আগস্ট ২০২৫

কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ বন্দরে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন তিন প্রবাসী শ্রমিক। শুক্রবার (৬ আগস্ট) বন্দর এলাকার একটি পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-আনবা’ জানিয়েছে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে থাকা তিনজন শ্রমিকই ট্যাংকের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, তাদের উদ্ধারের সুযোগ পর্যন্ত মেলেনি। নিহতরা দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

কুয়েতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, ঘটনার সময় বন্দর এলাকায় তাপমাত্রা ছিল ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। এই উচ্চ তাপমাত্রা ও পরিষ্কারে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের সংমিশ্রণে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, ফরেনসিক টিম এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ না করেই শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হয়।

কুয়েতের শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, “এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি অবহেলার ফল। বিদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা যেন সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে।”

এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশি রয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “আমরা বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছি। কুয়েতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।”

এই ঘটনার পর কুয়েতে বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরমে রাসায়নিক কাজ বন্ধ রাখা উচিত ছিল। একইসঙ্গে কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়েছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে।