পাক সেনাপ্রধানের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে ট্রাম্পের বৈঠকে যোগ দেননি মোদি: ব্লুমবার্গ

পাক সেনাপ্রধানের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে ট্রাম্পের বৈঠকে যোগ দেননি মোদি: ব্লুমবার্গ
নিউজ ডেস্ক
৯ আগস্ট ২০২৫

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানা গেছে। কারণ—ওয়াশিংটনে একই সময়ে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, এবং হোয়াইট হাউসের একটি প্রাইভেট লাঞ্চে তার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নয়াদিল্লি। বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ব্লুমবার্গ ও দক্ষিণ এশীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও মোদি শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করেন। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, এমন একটি সভায় মোদি-মুনিরের একত্র উপস্থিতি অস্বস্তিকর হতো এবং তা ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারত।

ভারতের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হোয়াইট হাউসে ফিল্ড মার্শাল মুনিরের সম্মানে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে এমন সম্মান পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বকে দেওয়া নজিরবিহীন বলেই মনে করছে ভারত।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সীমান্ত উত্তেজনার অবসান ঘটার কয়েক সপ্তাহ পরেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ওই উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ছিল। কিন্তু ভারত একে সরাসরি দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত কূটনৈতিক সমঝোতা বলেই দাবি করেছে।

জি-৭ সম্মেলনের ঠিক পরপরই ১৭ জুন মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপে উত্তেজনা বাড়ে। সূত্র জানায়, মোদি সাফ জানান, ভারত কোনো মধ্যস্থতা গ্রহণ করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি বলেন, “যুদ্ধবিরতি ভারতের সামরিক অভিযানের পর পাকিস্তানের অনুরোধেই হয়েছে।”

এমন বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্ক।

মোদির সফর বাতিলের পর পরই ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিরুদ্ধে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি পণ্যে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে ভারতীয় বাণিজ্যনীতি ও আমদানি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে মুনিরের দ্বিতীয় মার্কিন সফরের খবরও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি সম্প্রতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিলার বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। উল্লেখ্য, জেনারেল কুরিলা সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে গিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ সম্মাননা গ্রহণ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাবের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সমর্থন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে মার্কিন সামরিক-রাজনৈতিক সম্পর্ক আবারো জোরালো হচ্ছে। এতে নয়াদিল্লি তাদের কৌশলগত সমীকরণে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।