গাজা দখলে ইসরায়েলের জোরালো অভিযান: একদিনে নিহত ১২৩

গাজা দখলে ইসরায়েলের জোরালো অভিযান: একদিনে নিহত ১২৩
নিউজ ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৫

গাজা উপত্যকার সর্বশেষ দখল নিশ্চিত করতে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। বৃহস্পতিবারের এই অভিযানে মাত্র একদিনেই ১২৩ জন নিহত হয়েছেন, যা গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ।

একই সঙ্গে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং খাদ্য সংকটে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিশুরাও। এতে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে, যার মধ্যে ১০৬টি শিশু রয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজার জেইতুন, শেজাইয়া এবং খান ইউনিস এলাকায় বিমান ও ট্যাঙ্ক হামলা চালিয়েছে।
আল-আহলি হাসপাতাল জানায়, একক হামলায় জেইতুনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। খান ইউনিস এবং মধ্য গাজার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণকেন্দ্রে হামলায় আরও ৯ জন নিহত হন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইসরায়েলের কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাজা সিটি পুরোপুরি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ফিলিস্তিনিদের তাড়ানো হচ্ছে না, বরং যারা সাহায্য করতে চায়, তাদের উচিত দরজা খুলে দেওয়া।”

তবে ফিলিস্তিনিরা এটিকে আরেক “নাকবা” বা গণবিপর্যয়ের সূচক হিসেবে দেখছেন, যা ১৯৪৮ সালের গণচ্যুতি স্মরণ করিয়ে দেয়।

গাজায় হামলা চলাকালেই ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী মন্ত্রী বেজালাল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে তিন হাজার নতুন বসতির অনুমোদন দেন। আন্তর্জাতিক মহল একে আগ্রাসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে, বিশেষ করে যখন কিছু দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) ও বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্যমতে, ৪০ হাজারেরও বেশি শিশু হতাহত হয়েছে এবং ১৭ হাজার শিশু পরিবারহীন ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে।
১০ লাখ শিশু চরম মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির মুখে, শিক্ষা থেকেও বিচ্ছিন্ন।

অক্সফাম, মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (MSF) সহ ১০০টিরও বেশি সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,

“ইসরায়েল ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে তারা নির্ধারিত ‘শর্ত’ না মানলে ত্রাণ ঢুকতে না দেওয়া হয়। এটা মানবিক নীতির পরিপন্থী।”

ইতালি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ৫৮০ জন আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার জন্য নিচ্ছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ১৮০ জন শিশু। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে এটাই প্রথম উদাহরণ।

হামাসের প্রতিনিধি খলিল আল-হাইয়া কায়রোতে মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, “ইসরায়েল যদি যুদ্ধ বন্ধ করে ও সেনা প্রত্যাহার করে, তাহলে আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”

তবে এখনও কোনো স্থায়ী সমঝোতার ইঙ্গিত মেলেনি।