রাশিয়ার জ্বালানিতে মোদি সরকারের ‘সহযোগিতা’, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা ও বাণিজ্য চাপ

রাশিয়ার জ্বালানিতে মোদি সরকারের ‘সহযোগিতা’, যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা ও বাণিজ্য চাপ
নিউজ ডেস্ক
১৯ আগস্ট ২০২৫

রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে সোমবার প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে তিনি বলেন, ভারতের এই ক্রয়নীতি কার্যত ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়াকে আর্থিকভাবে সহায়তা করছে।

নাভারো বলেন, “ভারত এখন রাশিয়ান তেলের জন্য একটি বৈশ্বিক ক্লিয়ারিং হাউসের মতো কাজ করছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অপরিশোধিত তেলকে পরিশোধন করে উচ্চমূল্যে রপ্তানির মাধ্যমে মস্কোকে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করছে নয়াদিল্লি।” তিনি এ পদক্ষেপকে “পুতিনের যুদ্ধ অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর” বলে মন্তব্য করেন।

চীনের পর ভারত বর্তমানে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি ক্রেতা। ভারতের মোট জ্বালানির ৩০ শতাংশের বেশি আসে রাশিয়া থেকে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মাঝেও এই প্রবাহ রাশিয়ার অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এনে দিচ্ছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এরই জেরে, চলতি আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা আগের ২৫ শতাংশের সঙ্গে মিলে মোট ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাল্টা অবস্থান নিয়েছেন। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি বলেন, “আমাদের কৃষকদের স্বার্থে আমরা কোনো আপস করব না। যে কোনো বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে ভারত প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে।”

অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে ভারত। সোমবার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, মোদি ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন—“সংঘাত নয়, শান্তি ও সংলাপই একমাত্র পথ।” পরবর্তীতে, সামাজিক মাধ্যমে পুতিনকে ধন্যবাদও জানান মোদি।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত কঠিন কূটনৈতিক পথ বেছে নিচ্ছে—একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও কৌশলগত সম্পর্ক, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব।