গাজায় শিশুদের ওপর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ছায়া: ১৮ মাস বয়সী আলির ওজন মাত্র ৩ কেজি
ইসরায়েলি অবরোধ ও টানা যুদ্ধের ফলে গাজা উপত্যকায় তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যয়। চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার সংকটে শিশুরা পড়েছে ভয়ানক অনিশ্চয়তার মধ্যে। অপুষ্টি ও দুর্ভিক্ষে ১৮ মাস বয়সী আলি আবু আজরার ওজন এখন মাত্র ৩ কেজি — যেখানে তার ওজন হওয়ার কথা ছিল অন্তত ১৩ কেজি।
আলি এখন দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তীব্র অপুষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, জ্বর ও খিঁচুনিতে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে লড়ছে সে। তার মা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, “এক সপ্তাহে আলির ওজন আরও এক কেজি কমে গেছে। নেই দুধ, নেই ওষুধ। আমার সন্তান প্রতিদিন পানিশূন্যতায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে।”
শুধু আলিই নয়, হাসপাতালের এমন বহু শিশুই একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।
গাজার বাসিন্দারা এখন আতঙ্ক আর ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে প্রতিটি দিন পার করছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১১৩ জন, যাদের মধ্যে ৫০ জনই নিহত হয়েছেন শুক্রবার একদিনেই। হতাহতদের অন্তত ৩০ শতাংশই শিশু। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, গাজা এখন শিশুদের জন্য “অসম্ভব আতঙ্কের শহর”।
সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় সাত শিশু নিহত হয়েছে। জেইতুন, সাবরা, তুফাহ ও শেজাইয়া এলাকায় চালানো বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়েছে চারটি বড় ভবন। গাজা শহরের একাধিক এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
মাহা আফানা নামের এক নারী জানান, তিনি তার সন্তানদের খোঁজ করতে গিয়ে কেবল রক্তাক্ত দেহ খুঁজে পান। “ছেলের মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল, আর মেয়ে ছিল মাথা থেকে পা পর্যন্ত রক্তে ভেজা। আমি কিছু করতে পারিনি।”
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক বিবৃতিতে বলেন, গাজার উপর ‘নরকের দরজা’ খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, গাজা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ১২ তলা মুশতাহা টাওয়ার ধ্বংস করার পর আরও বহুতল ভবন হামলার লক্ষ্যে রাখা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) দেওয়ায় তিনটি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থাগুলো হলো:
-
আল-হক (রামাল্লা)
-
প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (গাজা)
-
আল-মিজান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এই সংস্থাগুলোকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
গাজার পরিস্থিতি এখন মানবিক বিপর্যয়ের সীমা ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখন একটাই প্রশ্ন—আর কত প্রাণ গেলে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেবে?


