যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নয়, এবার ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ — ট্রাম্পের নতুন আদেশে চমক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে এখন থেকে ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ হিসেবে পরিচিত হবে — এমনই এক চমকপ্রদ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার ওভাল অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পেন্টাগন ভবনের নামফলকে ইতোমধ্যেই পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোতেও রদবদলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় কেবল প্রতিরক্ষা নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে আগ্রাসনের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই ‘ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্স’ নামটি এখন আর যথোপযুক্ত নয়। ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ আমাদের জাতীয় মনোভাব ও ইতিহাসের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
এরই ধারাবাহিকতায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদবিও পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এখন থেকে পরিচিত হবেন ‘যুদ্ধমন্ত্রী’ হিসেবে। তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৭৮৯ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক বিভাগ ছিল “Department of War”। তবে ১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এর নাম পরিবর্তন করে ‘Department of Defense’ করেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি উইল শার্ফ বলেন, “আমাদের সামরিক সাফল্যের ইতিহাস এই নামের মধ্যেই নিহিত। এখন সময় এসেছে সেই ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ফিরে যাওয়ার।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের একটি শক্ত বার্তা — যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে কেবল প্রতিরক্ষার জন্য সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বরং আক্রমণাত্মক সামরিক নীতির দিকেও এগোচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, কংগ্রেস এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পরিবর্তন কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।


