গাজায় ২৭০০ পরিবারের কেউ বেঁচে নেই
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ২,৭০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে—অর্থাৎ এ পরিবারগুলোর কেউই আর বেঁচে নেই।
শনিবার গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে এ হৃদয়বিদারক তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আল জাজিরা সূত্রে পাওয়া তথ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র।
গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে ইসরায়েলি বিমান হামলায়।
1.৩৮টি হাসপাতাল,
2.৮৩৩টি মসজিদ,
3.১৫০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে গেছে।
আন্দাজ করা হচ্ছে, এই যুদ্ধের ফলে ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে গাজায়।
শনিবার রাতভর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নতুন করে ৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৫ জনই ছিলেন গাজা শহরে। শহরটি পুরোপুরি দখলের জন্য ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান জোরদার করেছে, এবং বেসামরিকদের দক্ষিণে সরিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত:
-
৬৪,৩৬৮ ফিলিস্তিনি নিহত
-
১,৬২,৩৬৭ জন আহত
-
নিহতদের মধ্যে ২০,০০০ এর বেশি শিশু রয়েছে
শুধু বোমা নয়, দুর্ভিক্ষেও মারা যাচ্ছে মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরায়েলি অবরোধ-সৃষ্ট খাদ্য সংকটে ইতোমধ্যেই মারা গেছে ৩৮২ জন, যাদের মধ্যে ১৩৫ জন শিশু।
বিপুল পরিমাণ বেসামরিক হতাহতের পরও আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকারকর্মীরা। গাজায় কার্যত মানবাধিকারের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে বলে দাবি করছে একাধিক সংগঠন।
এই মুহূর্তে গাজার পরিস্থিতি শুধুই একটি যুদ্ধ নয়, এটি একটি মানবিক বিপর্যয় ও গণবিধ্বংসী অভিযান—যার পরিণতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে বেড়াবে ফিলিস্তিনিরা।


