কাতারে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ

কাতারে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ
নিউজ ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দোহায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। হামলার ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই হামলাকে “অবিবেচনাপ্রসূত” এবং “কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিকর” বলে আখ্যা দেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দোহা হামলার খবর তিনি প্রথম জানতে পারেন মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা সূত্র থেকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আগাম কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। অথচ কাতার এমন একটি দেশ, যারা দীর্ঘদিন ধরে গাজায় যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতা করে আসছে।

নেতানিয়াহু পাল্টা জবাবে বলেন, “হামলার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য ছিল, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।” তবে পরে ট্রাম্প পুনরায় ফোন করে জানতে চান হামলা কতটা সফল হয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় তাদের শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন, যদিও সংগঠনটির পাঁচ সদস্য এবং এক কাতারি নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।

হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কাতার সরকার এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে নিন্দা করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি জানান, এই ঘটনায় আঞ্চলিক জোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি সিএনএন-কে বলেন, “এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তার জবাব অবশ্যই আসবে।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের একতরফা সামরিক পদক্ষেপে ক্রমেই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে, বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত না করে কৌশলগত হামলা চালানোয় ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—যার মধ্যে অনেক নারী ও শিশুও রয়েছে।

এই হামলা শুধু হামাসের বিরুদ্ধে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য, মিত্রতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে আরও কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেটি এখন গোটা বিশ্বের নজরে।