দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানে বিপুল সমর্থন, বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বিতীয় দফার হামলা শুরুর দিনেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানভিত্তিক একটি প্রস্তাব বিপুল ভোটে গৃহীত হয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের এই প্রস্তাবে ১৪২টি দেশ ভোট দিয়েছে পক্ষে, বিরোধিতা করেছে মাত্র ১০টি।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিকে অনেকেই গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক রূপরেখায় এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবকে বর্জন করেছে এবং কটাক্ষ করে বলেছে— ‘এটি হামাসের জন্য উপহার।’
নজরকাড়া বিষয় হলো, এই প্রথমবার ভারত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দিয়েছে। চলতি মাসের শেষে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের আগে এই সমর্থন কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সৌদি আরব ও ফ্রান্স আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রথম উত্থাপিত হয়েছিল।
ভোটের পরিসংখ্যান:
-
পক্ষে: ১৪২টি দেশ
-
বিপক্ষে: ১০টি (যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, নাউরু, মাইক্রোনেশিয়া, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি, প্যারাগুয়ে, টোঙ্গা)
-
বিরত: ১২টি দেশ
জাতিসংঘে সমর্থন পাওয়ার মাঝেই গাজার উপর ‘দ্বিতীয় দফার সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে ইসরায়েল। আলজাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার আবাসিক ভবনের পাশাপাশি স্কুল, হাসপাতাল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে।
শনিবারের আক্রমণে কমপক্ষে ৫১ জন নিহত, সাতজন মারা গেছেন অনাহারে। গত দুই বছরে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে ৪২০ জনের, যাদের মধ্যে ১৪৫ জন শিশু।
ইসরায়েলি সেনা বাহিনীর টানা বোমাবর্ষণ এবং উচ্ছেদ আদেশ সত্ত্বেও গাজার শহরে এখনও সাড়ে তিন লাখ শিশুসহ অন্তত ১৩ লাখ মানুষ অবস্থান করছে। ঘরহীন ও খাদ্যবঞ্চিত এসব মানুষ আন্তর্জাতিক সহায়তার আশায় প্রহর গুনছে।
গাজার আহতদের চিকিৎসার জন্য WHO ১৫ হাজার রোগীকে বিদেশে পাঠানোর আহ্বান জানালেও, ‘অত্যন্ত কম দেশ’ সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে ৩,৮০০ শিশু।
ইসরায়েলের যুদ্ধনীতির প্রতিবাদে অকল্যান্ডসহ একাধিক শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। ইউরোপীয় সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইউরোভিশন ২০২৬-এ ইসরায়েলের অংশগ্রহণ হলে নেদারল্যান্ডস বয়কটের হুমকি দিয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেছেন,
“এই প্রস্তাব হামাসকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করেছে। মানবিকতা ও শান্তির পক্ষে অবস্থানই এখন জরুরি।”


