আণবিক কাঠামোয় বিশ্বজয়: MOFs প্রযুক্তির জন্য রসায়নের নোবেল তিন বিজ্ঞানীর ঝুলিতে
রসায়ন বিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পুরস্কার জিতেছেন তিন বিজ্ঞানী। ‘মেটাল অর্গানিক ফ্রেমওয়ার্কস’ (MOFs) নামে এক যুগান্তকারী আণবিক কাঠামো আবিষ্কারের জন্য সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন, এবং ওমার এম ইয়াগি-কে যৌথভাবে এই সম্মাননা দেওয়া হলো। রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি বুধবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টায় এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
নোবেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই তিন বিজ্ঞানী এমন এক ধরনের স্ফটিক কাঠামো তৈরি করেছেন, যার ভেতরে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থ চলাচলের জন্য বিশাল সংখ্যক শূন্যস্থান বা ছিদ্র থাকে। এই ছিদ্রযুক্ত পদার্থগুলোই MOFs নামে পরিচিত।
এই কাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
.ধাতব আয়ন: স্ফটিকের কোণার খুঁটি বা সংযোগস্থলে থাকে।
.জৈব অণু: লম্বা, কার্বনভিত্তিক এই অণুগুলো খুঁটিগুলোকে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী, ছিদ্রযুক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করে।
এই নেটওয়ার্কের গহ্বরগুলো যেকোনো গ্যাসকে (যেমন: কার্বন ডাই-অক্সাইড, বিষাক্ত গ্যাস) বা অন্যান্য রাসায়নিককে আটকে রাখতে বা ফিল্টার করতে পারে।
MOFs-এর ব্যবহারিক প্রয়োগ একাধিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে:
.জলবায়ু পরিবর্তন: পরিবেশ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ধরে রাখা সম্ভব।
.পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা: মরুভূমির মতো শুষ্ক এলাকার বাতাস থেকেও পানি সংগ্রহ করা যেতে পারে।
.নিরাপত্তা: শিল্প বা সামরিক ক্ষেত্রে বিষাক্ত গ্যাস সংরক্ষণ বা অপসারণ করা সম্ভব হবে।
.শিল্প রসায়ন: বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়াকে দ্রুত ও আরও কার্যকর করা যাবে।
রসায়নে এ পর্যন্ত ১১৬ বার নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই বিভাগে সবচেয়ে বয়স্ক নোবেলজয়ী ছিলেন জন বি গুডএনাফ, যিনি ২০১৮ সালে ৯৭ বছর বয়সে পুরস্কার পান। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বয়সে এই সম্মান অর্জন করেন ফেদ্রিক জোলিয়ট, ১৯৩৫ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে।


