ট্রাম্পের উপস্থিতিতে শান্তিচুক্তিতে সই করল থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে রোববার (২৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সম্প্রসারিত অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
চুক্তি অনুযায়ী, থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার বন্দিদের মুক্তি দেবে, আর কম্বোডিয়া তার সীমান্ত এলাকায় ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার শুরু করবে। অঞ্চল পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে, যাতে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু না হয়।
গত জুলাইয়ে দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষে কয়েক ডজন নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। পাঁচ দিন পর মালয়েশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এসময় ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, “যদি যুদ্ধ পুনরায় শুরু হয়, তবে ব্যবসায়িক চুক্তি স্থগিত হতে পারে।”
রোববারের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চারনভিরাকুল উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প চুক্তিটিকে “বৃহৎ সাফল্য” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হুন মানেত বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।” আনুটিন মন্তব্য করেছেন, “চুক্তি স্থায়ী শান্তির ভিত্তি তৈরি করছে।”
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, অস্ত্রবিরতি “সন্ধান নয়, বরং সাহসের কাজ।” থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিকর্নডেজ বালানকুরা এটিকে “যৌথ ঘোষণা” হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দু’দেশের সম্পর্ক পুনর্নবীকরণের প্রতিশ্রুতি বহন করে।
এই চুক্তি বার্ষিক আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের সময় স্বাক্ষরিত হয়। ট্রাম্পের চলতি এশিয়া সফরের প্রথম ইভেন্ট হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে। এরপর তিনি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যাবেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। বিশ্লেষকরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়ায় প্রভাব বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।


