সংবিধান সংশোধন করে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বাড়ালো পাকিস্তান

সংবিধান সংশোধন করে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বাড়ালো পাকিস্তান
নিউজ ডেস্ক
১৩ নভেম্বর ২০২৫

পাকিস্তানের সংবিধানে বড় ধরনের সংশোধন এনে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বাড়ানো এবং সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে এই সংশোধনী বিল পাস হয়।

নতুন আইনে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরকে আজীবন দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে নতুন পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’-এর দায়িত্বও দেওয়া হবে। এই পদে তিনি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌ ও বিমানবাহিনীরও সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংসদে বিলটির পক্ষে বক্তব্যে বলেন, “আজ আমরা সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে ঐক্যের প্রতীক তৈরি করেছি। জাতি তাদের নায়কদের সম্মান দিতে জানে, আর আমরা জানি সেই সম্মান অর্জনের উপায়।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সংসদে মাত্র চারজন এমপি বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। এর আগে সিনেটেও বিরোধী দলের বয়কটের মধ্যেই বিলটি অনুমোদন করা হয়েছিল। এখন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইনে পরিণত হবে।

এই সংশোধনের মাধ্যমে সাংবিধানিক মামলাগুলোর বিচারভার সুপ্রিম কোর্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নতুন ‘কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক আদালত’-এর হাতে। সরকার নিজেই এই আদালতের বিচারক নিয়োগ করবে।
বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংসদ ত্যাগ করে। পিটিআই মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, “আজকের এই ভোট পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেল। সংবিধান এখন কেবল নামেই থাকবে।”

পাকিস্তানের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংশোধন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত হানবে।
আইন বিশেষজ্ঞ আসাদ রহিম খান মন্তব্য করেন, “এটি এক শতাব্দীতে দেখা না-যাওয়া এক নজির। আজ যারা এই পরিবর্তন উদযাপন করছে, কাল তারাই এর শিকার হবে।”
অন্যদিকে বিশ্লেষক মির্জা মইজ বেগ একে “স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মৃত্যু ঘণ্টা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী বরাবরই প্রভাবশালী ছিল। তবে এবার সেই প্রভাবকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হলো, যা ভবিষ্যতে পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।