দক্ষিণ এশিয়া হল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা
ডিসেম্বরের ৪ তারিখ সকালে ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৬টা ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্পটি নরসিংদীর শিবপুরে উৎপত্তি করে এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৪.১ ছিল।
ঢাকার আগারগাঁও থেকে ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল প্রায় ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী থেকে উৎপত্তিস্থল মাত্র ৩ কিলোমিটার উত্তরে এবং ভূমিকমাপের গভীরতা ছিল ৩০ কিলোমিটার।
বাংলাদেশে সম্প্রতি ভূমিকম্পের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
২১ নভেম্বর ২০২৫ সালে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়।
এর পরের ৩১ ঘণ্টায় ঢাকাসহ আশেপাশে আরও চারটি কম্পন অনুভূত হয়েছে।
২ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের মিনজিন।
ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত সংঘর্ষ।
ভারতীয়, ইউরেশিয়ান, ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান, সুন্দা এবং বার্মিজ প্লেট একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করছে।
প্রতি বছর ভারতীয় প্লেট প্রায় ৫ সেন্টিমিটার উত্তর দিকে সরছে, যা ভূ-ভৌগোলিক চাপ সৃষ্টি করে।
হিমালয় অঞ্চলের প্রাচীন ফল্ট লাইন পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে, যার কারণে বড় ও ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশে ডেল্টা অঞ্চলের নরম মাটি, সিলেট ও ডাউকি ফল্ট, চেরদাং ফল্টের উপস্থিতি এবং নগরায়নের দ্রুত বৃদ্ধি ভূমিকম্পের প্রভাবকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট মূল ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থিত।
দুর্যোগ প্রতিরোধের মানদণ্ড না মানা নির্মাণ কাজ ভবনগুলোর ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, হিমালয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ার ফল্ট লাইনের কাছাকাছি এলাকায় ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে।
প্রাচীন ফল্ট লাইনগুলোর পুনরায় সক্রিয় হওয়া এবং জমে থাকা টেকটোনিক চাপ ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্রুত নগরায়ণ এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ না করলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।


