মন্দিরের মালিকানা বিরোধে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষ, নিহত ২০ ছাড়াল

মন্দিরের মালিকানা বিরোধে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষ, নিহত ২০ ছাড়াল
নিউজ ডেস্ক
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে। প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন একাধিক মন্দিরের মালিকানা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ বর্তমানে পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক ছয় দিনের টানা সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২০০ জন। সহিংসতার কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে প্রায় ছয় লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়ার এই বিরোধের সূত্রপাত ১৯৬২ সালে। সে বছর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ১১শ শতকের খেমার সভ্যতার নিদর্শন প্রিয়াহ ভিয়ার মন্দিরের সার্বভৌমত্ব কম্বোডিয়ার হাতে তুলে দেয়। তবে আদালতের এই রায় থাইল্যান্ড পুরোপুরি মেনে নেয়নি। ফলে পরবর্তী কয়েক দশক ধরে সীমিত আকারে হলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০০৮ সালে প্রিয়াহ ভিয়ার মন্দিরকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর থাইল্যান্ডে জাতীয়তাবাদী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২০১১ সালে ব্যাপক সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হন। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় তখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

চলতি বছরের মে মাসে সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামরিক টহল জোরদারকে কেন্দ্র করে থাই সেনাদের হাতে এক কম্বোডীয় সেনা নিহত হন। এর পর থেকেই দফায় দফায় সংঘর্ষ বাড়তে থাকে, যা সম্প্রতি পূর্ণমাত্রার লড়াইয়ে রূপ নেয়।

সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে প্রিয়াহ ভিয়ার মন্দির ছাড়াও তা মুয়েন থম ও তা কোয়াই নামের আরও কয়েকটি প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। এসব মন্দির বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উভয় দেশই মালিকানা দাবি করে আসছে। এছাড়া থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ বা পান্না ত্রিভুজ এলাকাও বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র।

বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুলাই ও ডিসেম্বর মাসে এই অঞ্চলগুলোকে ঘিরে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ থাকলেও থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া কেউই তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। ফলে অচিরেই এই সংঘাতের অবসান হবে—এমন সম্ভাবনা আপাতত খুবই কম বলে মনে করছেন তারা।