হাঙ্গেরিতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

হাঙ্গেরিতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ
নিউজ ডেস্ক
১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

শিশু নির্যাতন-কেলেঙ্কারিতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের পদত্যাগ দাবি করে রাজপথে নেমেছে হাজারো মানুষ। শনিবার রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত নির্যাতন মামলার কারণে অরবানের সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সর্বশেষ রাজধানীর একটি কিশোর সংশোধনাগারে নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সেপ্টেম্বরে বুদাপেস্টের সজোলো স্ট্রিট কিশোর বন্দি কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এক ঘটনায় কেন্দ্রটির পরিচালক এক কিশোরকে লাথি মারছেন—এমন দৃশ্য নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দল টিআইএসজার নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বে শনিবার থেকে ধারাবাহিক বিক্ষোভ শুরু হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ঘটনার পর চারজন কর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সরকার জানিয়েছে, শিশুদের জন্য পরিচালিত সব প্রতিষ্ঠানকে পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে আনা হবে। তবে বিক্ষোভকারীদের মতে, এই পদক্ষেপ অপর্যাপ্ত এবং দায় এড়ানোর শামিল।

শনিবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ ‘শিশুদের রক্ষা করুন’ লেখা ব্যানার হাতে বুদাপেস্টের প্রধান সড়কগুলোতে মিছিল করেন। অনেকেই নির্যাতনের শিকার শিশুদের প্রতি সংহতি জানাতে খেলনা ও মশাল বহন করেন।

বিক্ষোভের মধ্যেই পিটার ম্যাগিয়ার ২০২১ সালের একটি অপ্রকাশিত সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে বলা হয়েছে—রাষ্ট্র পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

৭৩ বছর বয়সী পেনশনভোগী জসুজা সাজালে এএফপিকে বলেন, শিশুদের ওপর যা হচ্ছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই অবহেলার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতেই আমরা রাজপথে নেমেছি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন সব শিশু নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, অরবান প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবতা বিবেচনায় যথেষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত বছর একই ধরনের চাপের মুখে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যাটালিন নোভাক পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। রাষ্ট্র পরিচালিত একটি বিদ্যালয়ের উপ-পরিচালককে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগে গড়ায়।