যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা, পাবে বাংলাদেশও
যুক্তরাষ্ট্র সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঘোষণা করেছে, জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য তারা ২০০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেবে। প্রাথমিকভাবে এই অর্থ বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশে পৌঁছাবে।
ঘোষণার সময় জোর দেওয়া হয়েছে, নতুন অর্থায়ন প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশিত সংস্কারের অংশ। সহায়তা সমন্বিত তহবিলের মাধ্যমে বিতরণ হবে এবং বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কম দাতার অর্থে বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
তবে সহায়তা কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার কারণে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সেবায় বড় ধরনের কাটছাঁট হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে সহায়তা পাবার তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, কঙ্গো, হাইতি, সিরিয়া ও ইউক্রেন। তবে আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, গাজা অঞ্চলের জন্য আলাদা তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবিক সহায়তা সর্বোচ্চ ১৭ বিলিয়ন ডলার ছিল। এর মধ্যে ৮–১০ বিলিয়ন ডলার ছিল স্বেচ্ছা অনুদান, বাকিটা নিয়মিত সদস্য হিসেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা কমানো সঙ্কটাপন্ন দেশগুলোর জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। অনাহার, বাস্তুচ্যুতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকটকে আরও জটিল করবে।
টম ফ্লেচারের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ওসিএইচএ কেন্দ্রীয় সহায়তা বিতরণের চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে একাধিক আহ্বানের বদলে সহায়তা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে, যা আরও কার্যকর ও সমন্বিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই বরাদ্দ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা দেশের অভ্যন্তরীণ মানবিক প্রকল্প ও সংকট মোকাবেলায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।


