পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের হামলা, হতবাক ট্রাম্প

পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের হামলা, হতবাক ট্রাম্প
নিউজ ডেস্ক
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নতুন করে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জানিয়েছেন, ফোনালাপে পুতিন ট্রাম্পকে নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত তার রাষ্ট্রীয় বাসভবনে ইউক্রেনের সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে অবহিত করেছেন।

উশাকভ জানান, ট্রাম্প হামলার খবর শুনে “হতবাক” হয়েছেন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে” বলেও মন্তব্য করেছেন।

পুতিন ফোনালাপে বলেছেন, হামলা মার-আ-লাগোতে আলোচনার ঠিক পরপরই সংঘটিত হয়েছে এবং তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব “অত্যন্ত কঠোরভাবে” দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মস্কো ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনাভিত্তিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে এবং পূর্ববর্তী সমঝোতা ও চুক্তিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ফোনালাপের সময় ট্রাম্প ইউক্রেনের এই হামলার খবরে গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, “এ ধরনের বেপরোয়া পদক্ষেপ কল্পনাও করতে পারিনি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনা ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজের ধরন ও নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

উশাকভ জানিয়েছেন, ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়েও আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং সশস্ত্র সংঘাত সমাধানে বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

ক্রেমলিনের সহকারী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিয়েভকে যুদ্ধবিরতির আড়ালে কোনো দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ না নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উশাকভের বরাতে জানা যায়, ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোট ১৭ বার কথা বলেছেন, যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ১০টি টেলিফোনালাপ রয়েছে। এছাড়া আলাস্কা সফর ও ট্রাম্পের বিশেষ দূতদের সঙ্গে ছয়টি বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত।

এর আগে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সোমবার জানান, নভগোরোদে পুতিনের সরকারি বাসভবন লক্ষ্য করে ৯১টি দূরপাল্লার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তবে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলার আগেই সব ড্রোনকে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।