ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর রোববার (৪ জানুয়ারি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করায় এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
রোববার উত্তর কোরিয়া অন্তত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যা গত দুই মাসের মধ্যে তাদের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এই ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে পিয়ংইয়ং জানায়, ওয়াশিংটন দেশটির সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছে। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও নিষ্ঠুর নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং চীনে রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করার কয়েক ঘণ্টা আগেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটে। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সূত্র জানায়, উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কোরীয় উপদ্বীপ ও জাপানের মধ্যবর্তী সাগরে গিয়ে পড়ে। সিউলের ফার ইস্টার্ন স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেন, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া চীনের প্রতি বার্তা দিতে চেয়েছে, যেন বেইজিং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা না বাড়ায় এবং নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে চাপ প্রয়োগ না করে।
তিনি আরও বলেন, পিয়ংইয়ং সম্ভবত এটিও বোঝাতে চেয়েছে যে তারা ভেনেজুয়েলার মতো নয়, বরং একটি পারমাণবিক ও সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্র, যা যে কোনো আক্রমণের জবাব দিতে প্রস্তুত।
ইয়োনসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক বং ইয়ংশিক বলেন, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করে এই ঘটনাকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘনকারী উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি জানান, টোকিও পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যুক্তরাষ্ট্র, তাদের সেনাসদস্য বা মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
সূত্র: রয়টার্স


