শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবিতে ভারতীয় রাজনীতিবিদের চাপ

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবিতে ভারতীয় রাজনীতিবিদের চাপ
নিউজ ডেস্ক
৫ জানুয়ারি ২০২৬

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একসময় যাকে দিল্লি কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখেছিল, সেই শেখ হাসিনার উপস্থিতি এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই দাবির নেতৃত্বে রয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর প্রধান ও লোকসভা সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে তথাকথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও বক্তব্য চললেও দিল্লির ভিআইপি এলাকায় একজন ক্ষমতাচ্যুত ও বিতর্কিত শাসককে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াইসি বলেন, যদি গরিব ও সাধারণ বাংলাদেশিদের তাড়ানো যায়, তবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে কেন নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না?

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তার এই বক্তব্য ঘিরে জনসভায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সভাস্থল। তিনি দাবি করেন, বিহার কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর অস্তিত্ব নেই। কটাক্ষ করে বলেন, ‘আসল বাংলাদেশি বসে আছেন দিল্লির লুটিয়েন্স বাংলোয়।’

এদিকে ভারতের বিরোধী দলগুলোও বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের প্রশ্ন, গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন পলাতক শাসক কেন ভারতের করদাতাদের অর্থে ভিআইপি নিরাপত্তা ও বিশেষ সুবিধা ভোগ করবেন?

বিশেষ করে আইপিএলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ক্রিকেটার ও সাধারণ নাগরিকদের ভিসা ও প্রবেশে কঠোরতা আরোপের মধ্যে শেখ হাসিনার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়াকে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে দেখছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ অভিবাসন ও বাংলাদেশি ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপি যখন বিভিন্ন রাজ্যে রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছে, তখন শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি মোদি সরকারের জন্য কূটনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অস্বস্তি আগামী দিনে আরও প্রকট হতে পারে। তাকে আদৌ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না—এই প্রশ্ন এখন শুধু ঢাকা নয়, দিল্লির রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।