ইরানে ফাঁসি কার্যকর হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানে ফাঁসি কার্যকর হলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
নিউজ ডেস্ক
১৪ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক ব্যক্তিদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ” নেবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যদি ইরান এমন কিছু করে, তাহলে আমরা খুব কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবো।” ট্রাম্পের দাবি, বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং এখন ফাঁসির খবর শোনা যাচ্ছে।

এর আগে তেহরানের প্রসিকিউটররা জানান, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’—অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ অভিযোগ আনা হবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী নিহত হতে পারে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই আন্দোলন ইরানের ধর্মীয় শাসনের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যকে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই “পরিচিত কৌশল” ব্যর্থ হতে বাধ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানে সরকার পরিবর্তনই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির মূল লক্ষ্য। নিষেধাজ্ঞা, হুমকি এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সামরিক পদক্ষেপের পথ তৈরি করাই তাদের দীর্ঘদিনের কৌশল।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলের কাহরিজাক মর্গে সারি সারি মরদেহ দেখা গেছে। কালো ব্যাগে মোড়ানো এসব মরদেহের পাশে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে দেখা যায় পরিবারগুলোর সদস্যদের।

ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কয়েক রাত ধরে চলা বিক্ষোভের পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, সরকার গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে এবং দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ রেখে প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ আংশিকভাবে চালু হলেও তা শুধুমাত্র আউটগোয়িং কলের জন্য সীমিত ছিল এবং সংযোগ ছিল দুর্বল বলে জানিয়েছেন বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক।

এর আগে একই দিন ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে।” তবে এই সহায়তা কী ধরনের, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।