ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনে আগ্রহীদের দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন ভ্রমণ ও ট্যুরসংশ্লিষ্টরা। দেরি করলে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ট্যুর অপারেটররা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী দৈনিক খালিজ টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় মুসল্লিদের ঢল নামায় পরিবহন ও আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে ওমরাহ প্যাকেজের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
ওমরাহ অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাসযোগে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ প্রায় এক হাজার ২০০ দিরহাম থাকলেও খুব শিগগিরই তা বেড়ে এক হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই ব্যয় দুই হাজার দিরহামেরও বেশি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক যাত্রী শেষ মুহূর্তে কম দামে প্যাকেজ পাওয়ার আশায় বুকিং দিতে দেরি করেন। কিন্তু রমজানের ব্যস্ত মৌসুমে হোটেল ও পরিবহনের সীমাবদ্ধতার কারণে উল্টো বাড়তি খরচ গুনতে হয়।
আকাশপথে ওমরাহ পালনের ক্ষেত্রে ব্যয় আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজের মূল্য শুরু হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম থেকে। তবে রমজান শুরু হলে এই খরচ ৫ হাজার ২০০ দিরহাম ছাড়িয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশ দিনে ব্যয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটররা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিমান টিকিটের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও হোটেল ভাড়াই মূলত ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মসজিদুল হারামের কাছাকাছি অবস্থিত হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এছাড়া হজ মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ওমরাহ ভিসার সময়সীমাও বিবেচনায় রাখতে হবে। আগামী ১৭ মার্চের পর ওমরাহ ভিসা আবেদন বন্ধ হবে। ভিসাধারীদের ২ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে এবং ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সব দিক বিবেচনায় রেখে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য আগেভাগে পরিকল্পনা ও বুকিং সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


