রয়টার্সের প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: যুদ্ধের আবর্তে পড়তে পারে পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ায় সংঘাতে পাকিস্তান জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের ওপর হুথি হামলার পর ইসলামাবাদের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দেশটিতে পাকিস্তানি সেনা সদস্য ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক সহায়তা চাইলে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
তবে পাকিস্তান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার কথা বলছে। ইসলামাবাদ বারবার সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ইসলামাবাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের অস্থিরতা পাকিস্তানের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পাকিস্তানের ওপর পক্ষ বেছে নেওয়ার চাপ বাড়তে পারে। তবে আপাতত দেশটি সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাই ধরে রাখতে চায় এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখছে।


