বিতর্কিত ভার্চুয়াল নেতৃত্ব: শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আলোচনার জন্য ‘ফি’ নিচ্ছেন কাদের?

জাতীয়
বিতর্কিত ভার্চুয়াল নেতৃত্ব: শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আলোচনার জন্য ‘ফি’ নিচ্ছেন কাদের?
নিউজ ডেস্ক
২৯ জুলাই ২০২৫

মাত্র কদিন পরেই ৫ আগস্ট। ঠিক এক বছর আগে এই দিনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ভারতে তাঁর আশ্রয় নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয় নাটকীয় রাজনৈতিক রদবদল। আজ, এক বছর পরে, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে চলছে চরম অনিশ্চয়তা, বিভাজন এবং বিশ্বাসঘাতকতার গল্প।

আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ সূত্র নিউজপোর্ট-কে নিশ্চিত করেছে—দল এখন আর ঐক্যবদ্ধ নয়। টেলিগ্রামই হয়ে উঠেছে দলের নতুন রাজনীতির মঞ্চ, আর সেখানে চলছে ক্ষমতা, প্রতারণা ও নজরদারির সমান্তরাল খেলা।

গত এক বছরে ৭০টিরও বেশি টেলিগ্রাম চ্যানেল ও গ্রুপ গড়ে তুলেছে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এসব গ্রুপে প্রায় প্রতিরাতে চলে গোপন মিটিং—কখনো হাসিনার ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে, কখনো বা শুধুই কাদের-জয়দের নেতৃত্বে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কিন্তু এসব মিটিং যে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে বেশিদিন লাগেনি। “আমাদের কথা বলার ঠিক পরেই গ্রেপ্তার হচ্ছিলো নেতারা,” বলছেন এক কেন্দ্রীয় নেতা, যিনি নিজেও এখন আত্মগোপনে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “আমরা টের পাই, কোথাও কেউ আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করছে। এরপর একে একে আমাদের কর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।”

বিশেষ সূত্র জানায়, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের টেলিগ্রামে কথাবার্তা বলার সময় নির্ধারণ করেন নিজেই। এমনকি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কথা বলার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

“ওবায়দুল কাদের এখন আর সংগঠক না, তিনি এক ধরনের টেলিগ্রাম ব্যবসায়ী,” অভিযোগ করছেন এক জ্যেষ্ঠ নেতা।

আরেকটি ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, টেলিগ্রাম গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছে ড. ইউনূস ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সদস্যরা। তাদের অনেকেই গ্রুপের কথোপকথন গোপনে রেকর্ড করছে বলে দাবি করেছে একাধিক নেতা। এসব তথ্য ব্যবহার করেই গণগ্রেপ্তার চলছে।

নিউজপোর্ট জানতে পেরেছে, ডার্ক ওয়েবে দলের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর শেখ হাসিনা নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন, ভিপিএন ছাড়া কোনো টেলিগ্রাম মিটিং নয়। শুধু তাই নয়, দলের কর্মীদের জন্য নতুন সাইবার ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নতুন চেহারায় ফিরতে চায়।

“এক বছর হয়ে গেছে। এখন আর শুধু অনলাইনে কথা বলে লাভ নেই,” বলেন দলের একজন বিভাগীয় নেতা।
“আমরা প্রস্তুত। রাস্তায় নামা ছাড়া বিকল্প নেই। প্রতিটি জেলায় প্রতিরোধ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”