যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ককে ‘অন্যায়’ আখ্যা, বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা চীনের

জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ককে ‘অন্যায়’ আখ্যা, বাংলাদেশের পাশে থাকার বার্তা চীনের
নিউজ ডেস্ক
৩০ জুলাই ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কারোপকে ‘আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, এসব শুল্কারোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর, এবং এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বেইজিং।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব টকে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনউদ্দিন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মামুন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কারোপ যুক্তিসঙ্গত নয়। এই প্রেক্ষাপটে চীন বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ যাতে রপ্তানি বাজারে টিকে থাকতে পারে সে জন্যও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি জানান, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ২০২৮ সাল পর্যন্ত চীনে শতভাগ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ইয়াও ওয়েন বলেন, “নির্বাচন হবে কি না, কবে হবে— তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে চীন চায় অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন ও সংস্কারের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, এবং চীন তার পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, “এটি কোনো তৃতীয় পক্ষবিরোধী জোট নয় বরং উন্নয়নভিত্তিক একটি উদ্যোগ। অন্য কোনো দেশের এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।”

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এই তিন দেশ ১২টি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে, এবং মহাপরিচালক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে বিগত দশকে চীনের যোগাযোগ না থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ইয়াও বলেন, “তৎকালীন সরকারের সময় এ যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা ছিল। এখন সময় এসেছে, তাই আমরা নতুন করে সংলাপ শুরু করেছি।”

সম্প্রতি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার তদন্তে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসবে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের অবস্থান তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ফেরত পাঠানোই একমাত্র টেকসই সমাধান। রাখাইনের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এখনই প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। তবে আলোচনা অব্যাহত আছে।”

তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত দিলে চীন দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে।”

চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, “প্রতি মাসে ৪০–৫০ জন বাংলাদেশি চিকিৎসা নিতে চীন যাচ্ছেন। শিগগিরই বাংলাদেশে হাসপাতাল স্থাপন করবে চীন।”