যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় কূটনৈতিক সাফল্য দাবি করল অন্তর্বর্তী সরকার
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপকে “একটি কূটনৈতিক বিজয়” বলে অভিহিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের শুল্ক আলোচক দলের কৌশলগত দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি আজকের এই সাফল্যের ভিত্তি। পূর্বঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্কের বিপরীতে ২০ শতাংশ হারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে—যা ১৭ শতাংশ পয়েন্ট কম। এটি শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অর্জন।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার আরও জোরদার হলো। আমাদের তুলনামূলক সুবিধা অক্ষুণ্ণ রইল এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিশনের এক শক্তিশালী প্রতিফলন।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা আলোচনা ছিল জটিল ও বহুস্তরবিশিষ্ট। শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা ছাড়াও আলোচনায় ছিল নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যু। তবুও বাংলাদেশের আলোচক দল দৃঢ় অবস্থান ও কৌশলগত যোগাযোগের মাধ্যমে সফলভাবে চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
যদিও সরকার একে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে, তবে রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে কিছু ব্যবসায়ী মত দিয়েছেন, ২০ শতাংশ শুল্ক এখনও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ। তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প ও চামড়াজাত পণ্যের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিআই) এক পরিচালক বলেন, “৩৫ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশ হওয়া অবশ্যই স্বস্তির বিষয়। তবে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাচ্ছি না।”
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র, বৈদেশিক বাণিজ্য ঘাটতির অভিযোগ তুলে একাধিক উন্নয়নশীল দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। তখন বাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবিত শুল্কহার ছিল ৩৫ শতাংশ। আলোচনার প্রেক্ষিতে সেটি স্থগিত রেখে তিন দফা বৈঠকে বসে দুই দেশ।
সবশেষ ৩১ জুলাই ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত নথিতে নিশ্চিত করা হয়, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে। পূর্বের ১৫ শতাংশ সাধারণ শুল্কসহ মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৩৫ শতাংশ।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষায়, “এই সাফল্য আমাদের কূটনৈতিক পরিপক্বতা এবং অর্থনৈতিক দূরদর্শিতার প্রতিফলন। এটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও ভবিষ্যতের সমৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”


