ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট: এক বছর আগে এই দিনে গণআন্দোলনে পতন ঘটে স্বৈরাচারের

জাতীয়
ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট: এক বছর আগে এই দিনে গণআন্দোলনে পতন ঘটে স্বৈরাচারের
নিউজ ডেস্ক
৫ আগস্ট ২০২৫

এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে, ইতিহাসের নির্মম কিন্তু গর্বিত অধ্যায় রচনা করেছিল বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূত্র ধরে জন্ম নেয় এক গণবিস্ফোরণের, যার পরিণতিতে পতন ঘটে ১৬ বছরের স্বৈরাচারী সরকারের। পালিয়ে যান তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদ সদস্যসহ শীর্ষ নেতারা। দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এক নতুন সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, যাকে জনতা আজ ডাকছে— বাংলাদেশ ২.০ নামে।

১ জুলাই ২০২৪—যেদিন শুরু হয় কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কেউ ভাবতেও পারেনি এটি রূপ নেবে এক পূর্ণদম গণঅভ্যুত্থানে। আন্দোলনের ৩৬ দিনের মাথায়, ৫ আগস্টে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় এই উত্তাল বিক্ষোভ।

সকাল থেকেই ঢাকায় ছিল থমথমে অবস্থা। দুপুরের পর রাজধানীজুড়ে লাখো জনতার ঢল নামে। ছাত্ররা একা ছিল না—সাথে যোগ দেন শিক্ষক, চাকরিজীবী, শ্রমজীবী, শহীদদের পরিবার, মা-বাবা, এবং সাধারণ মানুষ। লং মার্চ টু ঢাকা হয়ে উঠে এক ঐতিহাসিক গণজোয়ার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

দুপুর ২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও, এক ঘণ্টা বিলম্বে বিকেল ৩টায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিশ্চিত করেন:
“দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা, সরকার নেই—এখন থেকে জনগণের ইচ্ছাই হবে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি।”

পরে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে এমআই‑১৭ হেলিকপ্টারে গণভবন ত্যাগ করেন। সেখান থেকে বিমান বাহিনীর সি১৩০ হারকিউলিসে চড়ে তারা ভারতের গাজিয়াবাদ পৌঁছান।

সেনাপ্রধানের ঘোষণার পরই জনতা ঢুকে পড়ে গণভবনে। সেখানে চলে বিজয় মিছিল, শ্লোগান আর কান্না। কেউ নামাজে শোক প্রকাশ করেন, কেউ আবার লেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে উল্লাস প্রকাশ করেন।

তবে এদিন ঢাকার যাত্রাবাড়িতে ভয়াবহ সহিংসতায় প্রাণ হারান অন্তত ৫৫ জন। আশুলিয়ায় পুড়িয়ে মারা হয় আরও ৬ জনকে। এসব ঘটনায় আজও বিচার কার্যক্রম চলমান।

সেদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে এক বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা আসে। সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনায় অংশ নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা, বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

এই প্রজন্ম ১৯৭১-এর যুদ্ধ দেখেনি, কিন্তু তারা গড়েছে এক নতুন বাংলাদেশ—যেখানে গণতন্ত্র, ন্যায্যতা ও অধিকার হবে রাষ্ট্রের মূলে। আজ, ৫ আগস্ট ২০২৫, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের প্রথম বর্ষপূর্তি।

এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়— পরিবর্তন কখনও উপহার নয়, সেটি ছিনিয়ে আনতে হয়।