৩০০ আসনের ফল বাতিলের ক্ষমতা পেল ইসি
একযোগে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারের সকল বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘না’ ভোটের অধিকার, আর প্রয়োজন হলে ৩০০ আসনের ফল একসঙ্গে বাতিল করার ক্ষমতা পেয়েছে ইসি।
সোমবার নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
ইসি সানাউল্লাহ জানান,
“নতুন আরপিও খসড়া অনুযায়ী, কমিশন চাইলে নির্বাচনের পর ৩০০ আসনের ফলাফলও বাতিল করতে পারবে। যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম বা জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তখন এই ক্ষমতা প্রয়োগ হবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
“ইভিএম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি থাকায় এবার ইভিএম বাদ দেওয়া হয়েছে। সব আসনেই ব্যালটের মাধ্যমে ভোট হবে,”— বলেন কমিশনার সানাউল্লাহ।
২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ভোটাররা ফের ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পেপারের শেষ প্রার্থী হিসেবে ‘উপরের কাউকে নয়’—এই অপশন থাকবে।
এই পদক্ষেপ সম্পর্কে সানাউল্লাহ বলেন,
“যেখানে একজন প্রার্থী থাকবেন, সেখানে তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত হতে পারবেন না। ভোটার চাইলে ‘না’ ভোট দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারবেন।”
নতুন খসড়ায় উল্লেখ আছে, কোনো প্রার্থী যদি হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন, নির্বাচিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে পদ বাতিল করতে পারবে কমিশন।
আরও যেসব সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে:
-
সমান ভোট পেলে লটারির বদলে পুনঃভোট
-
জোটগত নির্বাচন হলেও প্রতিটি দল নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচন করবে
-
সেনা, নৌ ও কোস্ট গার্ডকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে যুক্ত করার বিধান
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে ‘না’ ভোট ও ফল বাতিলের ক্ষমতা কমিশনের স্বাধীনতার প্রতিফলন।


