ভারতের নতুন নিষেধাজ্ঞা: স্থলপথে আরও চার ধরনের পাটপণ্য আমদানিতে বাধা
ভারত স্থলপথে বাংলাদেশের পাটপণ্য আমদানিতে আরও একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের চার ধরনের পাটজাত পণ্য এখন থেকে শুধু মুম্বাইয়ের নভোসেবা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা যাবে। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সিদ্ধান্তটি ১১ আগস্ট থেকেই কার্যকর হয়েছে।
নতুন করে যেসব পণ্য স্থলপথে আমদানিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলো হলো:
-
পাটের তৈরি বস্তা ও ব্যাগ
-
ব্লিসড ও আনব্লিসড বোনা কাপড়
-
পাটের সুতা, কর্ডেজ ও দড়ি
-
পাটের তারজাত পণ্য
এর ফলে ভারতের বাজারে এসব পণ্য পৌঁছাতে পরিবহন ব্যয় ও সময় বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ধরনের বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্যের ওপর এটি ভারতের চতুর্থ নিষেধাজ্ঞা। এর আগে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফল, কোমল পানীয়, প্লাস্টিক পণ্য, কাঠের আসবাব ও সুতাসহ একাধিক পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ পাট ও পাটজাত পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়ে থাকে। ফলে নতুন এই সিদ্ধান্ত রপ্তানি প্রবাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রউফ বলেন, “আমরা এই ধরনের অশুল্ক বাধার আশঙ্কা আগে থেকেই করেছিলাম। সে অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরে পাটের ব্যবহার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি মনে করেন, সাধারণ পণ্য নয়, বরং মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানির দিকে বাংলাদেশকে অগ্রসর হতে হবে। “ভারতের এই সিদ্ধান্ত হয়তো শেষ পর্যন্ত আমাদের জন্য আশীর্বাদই হবে,” বলেন তিনি।
বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সংগঠনের সভাপতি রাশেদুল করিম মুন্না জানান, “মুম্বাই বন্দরের বিকল্প ব্যবহারে সময় ও খরচ চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে ভারতের বাজার ধরে রাখা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।”
তিনি বলেন, ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারে রপ্তানির জন্য মান উন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনা হলে, বর্তমান প্রতিবন্ধকতা পাটখাতের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।


